মসজিদভিত্তিক মহল্লা থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত কাফেলার স্তরভিত্তিক রূপরেখা, গঠন পদ্ধতি এবং আমীর ও সাথী হওয়ার যোগ্যতা নিচে দেওয়া হলো।
কাফেলা গঠনের রূপরেখা
- মসজিদভিত্তিক মহল্লায় কাফেলার সংখ্যা হবে তাসবীহে ফাতেমির সংখ্যা হিসেবে — ৩৩ জন সদস্য ও একজন আমীর, মোট ৩৪ জনের কাফেলা। অথবা কুরআনের পারার সংখ্যা হিসেবে — ৩০ জন সদস্য ও একজন আমীর, মোট ৩১ জনের কাফেলা।
- ওয়ার্ডভিত্তিক কাফেলার সংখ্যা হবে «فِي كُلِّ سُنبُلَةٍ مِائَةُ حَبَّةٍ» এর সংখ্যায় — ১০০ জন সদস্য ও একজন আমীর, মোট ১০১ জনের কাফেলা।
- ইউনিয়ন ও পৌরসভাভিত্তিক কাফেলা হবে আসহাবে তালূত ও আসহাবে বদরের সংখ্যা হিসেবে — ৩১৩ জন সদস্য ও একজন আমীর, মোট ৩১৪ জনের কাফেলা।
- থানা ও উপজেলাভিত্তিক কাফেলার সংখ্যা হবে আসহাবে হুদায়বিয়া হিসেবে, অর্থাৎ বাইয়াতে রিদওয়ানের সংখ্যা — ১৪০০ জন সদস্য ও একজন আমীর, মোট ১৪০১ জনের কাফেলা।
- জেলাভিত্তিক কাফেলার সংখ্যা হবে আসহাবে ফাতহে মক্কার সংখ্যা হিসেবে — ১০,০০০ জন সদস্য ও একজন আমীর, মোট ১০,০০১ জনের কাফেলা।
- জেলার আমীরগণ, অর্থাৎ মহল্লার আমীর, ওয়ার্ডের আমীর, ইউনিয়ন/পৌরসভা আমীর ও থানার আমীরগণের সাথে নিয়ে হবে বিভাগীয় কাফেলা। উক্ত কাফেলার সংখ্যা হবে আসহাবে হুনায়নের সংখ্যা হিসেবে — ১২,০০০ জন সদস্য ও একজন আমীর, মোট ১২,০০১ জনের কাফেলা।
- কেন্দ্রীয় কাফেলার সংখ্যা হবে বিদায় হজের সাহাবাদের সংখ্যা হিসেবে — ১,২৫,০০০ জন সদস্য ও একজন আমীর, মোট ১,২৫,০০১ জনের কাফেলা।
- বাবুস সালাম কাফেলার শূরা পরিষদ — জামিয়া বাবুস সালামের ফারেগীণদের মধ্যে যারা সাল অথবা ৩ চিল্লার সাথী, তারা সকলেই হবে শূরার সাথী। এবং খাস ও আথাসসুল খাসের সাথীরাও হবে শূরার সাথী। যিনি বাবুস সালাম কাফেলার প্রধান, তিনি শূরারও প্রধান হবেন।
- খাস কাফেলা — জেলার আমীরদের সাথে নিয়ে হবে কেন্দ্রীয় খাস কাফেলা; এই কাফেলাও হবে বদর সংখ্যা হিসেবে — ৩১৩ জন সদস্য ও একজন আমীর, মোট ৩১৪ জনের কাফেলা।
- আথাসসুল খাস কাফেলা — এই কাফেলার সংখ্যা হবে আশারায়ে মুবাশশারার সংখ্যা হিসেবে — ১০ জন সদস্য ও একজন আমীর, মোট ১১ জনের কাফেলা।
একনজরে কাফেলার কাঠামো
| কাফেলার স্তর | গঠনের ভিত্তি | সদস্য | আমীর | মোট |
|---|---|---|---|---|
| মসজিদভিত্তিক মহল্লা | তাসবীহে ফাতেমি ৩৩ / কুরআনের পারা ৩০ | ৩৩ অথবা ৩০ | ১ | ৩৪ অথবা ৩১ |
| ওয়ার্ড | «فِي كُلِّ سُنبُلَةٍ مِائَةُ حَبَّةٍ» — ১০০ দানা | ১০০ | ১ | ১০১ |
| ইউনিয়ন ও পৌরসভা | আসহাবে তালূত ও আসহাবে বদর — ৩১৩ | ৩১৩ | ১ | ৩১৪ |
| থানা ও উপজেলা | বাইয়াতে রিদওয়ান — ১৪০০ | ১৪০০ | ১ | ১৪০১ |
| জেলা | আসহাবে ফাতহে মক্কা — ১০,০০০ | ১০,০০০ | ১ | ১০,০০১ |
| বিভাগীয় | আসহাবে হুনায়ন — ১২,০০০ | ১২,০০০ | ১ | ১২,০০১ |
| কেন্দ্রীয় | বিদায় হজের সাহাবা — ১,২৫,০০০ | ১,২৫,০০০ | ১ | ১,২৫,০০১ |
| খাস কাফেলা | বদর — ৩১৩ | ৩১৩ | ১ | ৩১৪ |
| আথাসসুল খাস | আশারায়ে মুবাশশারা — ১০ | ১০ | ১ | ১১ |
বিভাগীয় কাফেলা গঠিত হবে জেলার আমীরদের নিয়ে; খাস ও আথাসসুল খাস কাফেলা গঠিত হবে জেলা ও বিভাগীয় কাফেলার আমীরদের নিয়ে।
কাফেলা গঠনের পদ্ধতি
- মসজিদভিত্তিক কাফেলা গঠন ও অনুমোদন করবেন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কাফেলার আমীর এবং তার সাথে আরো কমপক্ষে ৫ জন সাথীর স্বাক্ষরে।
- ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কাফেলা গঠন ও অনুমোদন করবেন থানা কাফেলার আমীর এবং তার সাথে আরো কমপক্ষে ১০ জন সাথীর স্বাক্ষরে।
- থানা ও উপজেলা কাফেলা গঠন ও অনুমোদন করবেন জেলা কাফেলার আমীর এবং তার সাথে আরো কমপক্ষে ১০ জন সাথীর স্বাক্ষরে।
- জেলার কাফেলা গঠন ও অনুমোদন করবেন বিভাগীয় কাফেলার আমীর এবং তার সাথে আরো কমপক্ষে ১৫ জন সাথীর স্বাক্ষরে।
- কেন্দ্রীয় কাফেলা গঠন ও অনুমোদন করবেন থানা, জেলা ও বিভাগীয় কাফেলার আমীরগণ।
- খাস ও আথাসসুল খাস কাফেলা গঠন ও অনুমোদন করবেন জেলা ও বিভাগীয় কাফেলার আমীরগণ।
বি.দ্র. (১) ইউনিয়ন কাফেলায় মসজিদভিত্তিক কাফেলার আমীরগণ সাথী হিসেবে থাকবে। থানা কাফেলায় ইউনিয়ন কাফেলার আমীরসহ ৩ জন সাথী থাকবে। জেলা কাফেলায় থানা কাফেলার আমীরসহ ৫ জন সাথী থাকবে। বিভাগীয় কাফেলায় জেলা কাফেলার আমীরসহ ১০ জন করে সাথী থাকবে। কেন্দ্রীয় কাফেলায় জেলা কাফেলার আমীরসহ ১০ জন ও বিভাগীয় কাফেলার আমীরসহ ২০ জন সাথী থাকবে।
বি.দ্র. (২) একজন সাথী শুধু একটি কাফেলার আমীর থাকবে এবং একজন সাথী দুইটি কাফেলার সাথী থাকতে পারবে।
বি.দ্র. (৩) যদি কোন কাফেলার আমীর মারা যান অথবা অন্যত্র চলে যান অথবা একেবারে কাজ থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান, তাহলে কাফেলা গঠনের নিয়ম অনুসরণ করে নতুন আমীর নিয়োগ দেওয়া হবে।
কাফেলার আমীরগণের যোগ্যতা
- খাস, আথাসসুল খাস ও কেন্দ্রীয় কাফেলার আমীর হবেন কওমী মাদ্রাসা থেকে দাওরা হাদীস পাস ও সালওয়ালা এবং কোন আহলে হক শায়েখ থেকে খেলাফতপ্রাপ্ত।
- থানা/উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় কাফেলার আমীর হবেন কওমী মাদ্রাসা থেকে দাওরা হাদীস/তাকমীল অথবা কামিল পাস ও সালওয়ালা এবং কোন আহলে হক শায়েখ থেকে খেলাফতপ্রাপ্ত।
- মসজিদভিত্তিক মহল্লা, ইউনিয়ন/পৌরসভা এবং ওয়ার্ড কাফেলার আমীর হবেন ৩ চিল্লা/১ চিল্লাওয়ালা, কওমী মাদ্রাসা থেকে দাওরা হাদীস অথবা কামিল/আলিম পাস এবং সাধারণ সাথীদের মধ্যে তিন চিল্লা বা এক চিল্লার মজবুত সাথী।
- বাবুস সালাম কাফেলার কোনো আমীর দেশের প্রচলিত কোনো দলের দায়িত্বশীল অথবা সদস্য হতে পারবেন না।
সাথী হওয়ার যোগ্যতা
- হাফেজ, আলেম, তিন চিল্লার সাথী, এক চিল্লার সাথী অথবা পূর্ণ সুন্নতের উপর আমলকারী আহলে হক উলামাদের অনুসারী যে কোনো ব্যক্তি বাবুস সালাম কাফেলার সাথী হওয়ার যোগ্য।
- দেশের প্রচলিত কোন রাজনৈতিক দলের পদ-পদবীপ্রাপ্ত ব্যক্তি বাবুস সালাম কাফেলার সাথী হতে পারবেন না।
বি.দ্র. (১) ইসলামী রাজনীতি দলের সাথীদের সাথে বাবুস সালাম কাফেলার সাথীদের সুসম্পর্ক থাকবে এবং কারও সাথে বিরোধে জড়াবে না। একে অপরের সাধ্যমত সহযোগিতা করবে।
বি.দ্র. (২) বাবুস সালামের ফুযালাগণ শর্তপূরণ সাপেক্ষে যে কোন স্তরের আমীর ও সাথী হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।
বি.দ্র. (৩) আগামী ২০৩০-৩৫ সালের মধ্যে ইউনিয়ন/পৌরসভা পর্যায়ে কাফেলা গঠন সম্পূর্ণ করতে হবে। এবং ২০৩৫-৪০ সালের মধ্যে মসজিদভিত্তিক মহল্লার কাফেলা গঠন সম্পূর্ণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।
বি.দ্র. (৪) অনুরূপভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি জেলা বা উপজেলায় কমপক্ষে একটি করে দারুল উলুম বাবুস সালাম মাদ্রাসা (পুরুষ ও মহিলা) প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং ২০৩৫-২০৪০ সালের মধ্যে প্রতিটি পৌরসভা ও ইউনিয়নে একটি করে (পুরুষ ও মহিলা) মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এবং ২০২৪-২০৫০ সালের মধ্যে প্রতিটি গ্রামে একটি করে দারুল উলুম বাবুস সালাম পুরুষ মাদ্রাসা ও একটি করে তাসনিমুল উলুম বাবুস সালাম নামে মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে একজন করে হাফেজ ও একজন করে আলেম তৈরি করা হবে ইনশাআল্লাহ। এবং সকল মুসলমানদেরকে সহিহ কোরআন শিক্ষা প্রদান করা ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়কারী হিসেবে তৈরি করা হবে। এবং সকল অমুসলিমদের নিকট ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানো হবে ইনশাআল্লাহ।
বি.দ্র. (৫) এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় দারুল উলুম বাবুস সালামের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যগুলো উল্লেখিত সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে দ্বীনি পরিবেশ কায়েম করা হবে ইনশাআল্লাহ।
মাশওয়ারা সভা
- মসজিদভিত্তিক কাফেলা — প্রতি সপ্তাহে একবার।
- ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন/পৌরসভা — মাসে একবার।
- থানাভিত্তিক — দুই মাসে একবার।
- জেলাভিত্তিক — ৩ মাসে একবার।
- বিভাগ ও কেন্দ্রীয় বাবুস সালাম — বছরে একবার; প্রয়োজনে একদিন পর পরও হতে পারে।
- খাস কাফেলা — বছরে ৩ বার; আথাসসুল খাস তাকাজা ও প্রয়োজন অনুপাতে যতবার প্রয়োজন মাশওয়ারা কায়েম করবে।