কাফেলার নাম, মূল লক্ষ্য, মূল কর্মসূচি এবং তা বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিচে বর্ণিত হলো।

কাফেলার নাম

বাবুস সালাম কাফেলা।

কাফেলার মূল লক্ষ্য

তা‘মীলুল মাকাসিদের মাধ্যমে তাহসীলুল মাও‘উদ — অর্থাৎ, ঈমান ও আমলের পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আল্লাহ পাকের ওয়াদাকৃত খেলাফত ব্যবস্থা হাসিল করা। যেমন আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন:

وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ

তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎ কাজ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে রাজত্ব দান করবেন, যেমন তিনি তার পূর্ববর্তীদের রাজত্ব দান করেছিলেন।

সূরা নূর, আয়াত: ৫৫

কাফেলার মূল কর্মসূচি

الأمر بالمعروف و النهي عن المنكر — অর্থাৎ সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধের বাস্তবায়নের চেষ্টা করা। যেমন আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন:

وَ لْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَ يَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ ۚ وَ أُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ

তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা চাই, যারা (মানুষকে) কল্যাণের দিকে ডাকবে, সৎকাজের আদেশ করবে ও মন্দ কাজে বাধা দেবে। এরূপ লোকই সফলতা লাভকারী।

সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৪

كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ

(হে মুসলিমগণ!) তোমরা সেই শ্রেষ্ঠতম দল, মানুষের কল্যাণের জন্য যাদের অস্তিত্ব দান করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ করে থাক ও অন্যায় কাজে বাধা দিয়ে থাক এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখ। কিতাবীগণ যদি ঈমান আনত, তবে তাদের পক্ষে তা কতই না ভালো হত। তাদের মধ্যে কতক তো ঈমানদার, কিন্তু তাদের অধিকাংশই নাফরমান।

সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১০

কাফেলার কার্যক্রম

  1. কেন্দ্রীয় দারুল উলুম বাবুস সালাম (বাবুস সালাম ফাউন্ডেশন)-এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যগুলো বাস্তবায়ন এবং এর মাধ্যমে সমাজ ও দেশে পূর্ণ দ্বীনি পরিবেশ কায়েম করা।
  2. ইসলামী খেলাফত ব্যবস্থার সুফল ও উপকারিতা প্রতিটি নাগরিককে বুঝানো।

কার্যক্রম বাস্তবায়ন পদ্ধতি

وَأَمْرُهُمْ شُورَىٰ بَيْنَهُمْ — অর্থাৎ সকল কাজ মাশওয়ারার মাধ্যমে বাস্তবায়ন হওয়া। যেমন আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন:

وَ الَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِرَبِّهِمْ وَ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَ أَمْرُهُمْ شُورَىٰ بَيْنَهُمْ وَ مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ

এবং যারা তাদের প্রতিপালকের ডাকে সাড়া দিয়েছে, নামায কায়েম করেছে এবং যাদের কাজকর্ম পারস্পরিক পরামর্শক্রমে সম্পন্ন হয় এবং আমি তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা থেকে (সৎকর্মে) ব্যয় করে।

সূরা আশ্ শূরা, আয়াত: ৩৮

فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ لِنتَ لَهُمْ ۖ وَلَوْ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ ۖ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ ۖ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ

(হে নবী! এসব ঘটনার পর) আল্লাহর রহমতই ছিল, যদ্দরুন তাদের প্রতি তুমি কোমল আচরণ করেছ। তুমি যদি রূঢ় প্রকৃতির ও কঠোর হৃদয় হতে, তবে তারা তোমার আশপাশ থেকে সরে বিক্ষিপ্ত হয়ে যেত। সুতরাং তাদেরকে ক্ষমা কর, তাদের জন্য মাগফিরাতের দু‘আ কর এবং (গুরুত্বপূর্ণ) বিষয়ে তাদের সাথে পরামর্শ করতে থাক। অতঃপর তুমি যখন (কোন বিষয়ে) মনস্থির করবে, তখন আল্লাহর উপর নির্ভর করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদেরকে ভালোবাসেন।

সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৫৯

← কুরআন ও হাদিস গঠন ও যোগ্যতা →