জামিয়ার শৃংখলা ও নিয়মনীতি প্রসঙ্গে
জামিয়া ইসলামিয়া একটি আদর্শ দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ইলমে ওহীর নূর হাসিল এবং আত্মশুদ্ধির মহান উদ্দেশ্যকে সফল করতে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মানুবর্তিতা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ রক্ষা করা প্রত্যেক তালিবে ইলমের উপর অবশ্য কর্তব্য। নিচে বর্ণিত বিধিমালার যেকোনো একটি শিরোনামে ক্লিক করে তার বিস্তারিত নিয়ম জেনে নিন।
📖 কুতুবখানা সংক্রান্ত কিছু অবশ্য পালনীয় নিয়ম
- কিতাবের হেফাজতের পূর্ণ জিম্মাদার হতে হবে।
- কিতাব যেখানে-সেখানে ফেলে রাখা সম্পূর্ণ নিষেধ।
- কিতাবের উপর অবশ্যই মলাট করতে হবে। মলাট না করলে নাযেমে কুতুব যে কোনো সময় কিতাব নিয়ে নেওয়ার এখতিয়ার রাখেন। এতে কোনো আপত্তি করা যাবে না।
- কিতাবে কলম ও পেন্সিল দ্বারা লেখা সম্পূর্ণ নিষেধ। তবে কিতাবের হেফাজতের জন্য মলাটের উপর নিজের নাম ও ঠিকানা লেখা যাবে।
- বার্ষিক পরীক্ষার শেষ দিনের মধ্যে সকল কিতাব অবশ্যই জমা দিতে হবে।
- কোনো কিতাব নষ্ট করলে বা হারিয়ে ফেললে তার ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে।
- উপরোক্ত শর্তাবলির খেলাফ করলে ভবিষ্যতে আর জামিয়া থেকে কিতাব পাওয়ার উপযুক্ত বলে গণ্য হবে না।
- কিতাব জমা না দিলে সনদপত্র স্থগিত থাকবে।
📝 পরীক্ষা সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন
- জামিয়া বাবুস সালামে প্রতি শিক্ষাবর্ষে তিনটি মৌলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া দুটি মাসিক পরীক্ষা ও একটি প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একটি ঈদুল আযহার বিরতির পূর্বে এবং অপরটি দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার পূর্বে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া যেকোনো বিষয় শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন সময়ে মাসিক পাঠ-মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
- মূল পরীক্ষা ৮ দিন এবং মাসিক পরীক্ষা ৩/৪ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়। এসব পরীক্ষার পূর্বে যথাক্রমে ৭ দিন ও ৩ দিন খিয়ার দেওয়া হয়।
- পরীক্ষার সময় প্রতিদিন সকাল ৮:৩০ মিনিট থেকে ১১:৩০ মিনিট পর্যন্ত। শুক্রবার সকাল ৭:৩০ মিনিট থেকে ১০:৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
- সকল পরীক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় প্রবেশপত্র সঙ্গে রাখা আবশ্যক। প্রবেশপত্রের সঙ্গে কলম ও বোর্ড ব্যতীত অন্য কোনো কিছু আনা নিষিদ্ধ।
- পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ের ২০ মিনিট পূর্বে পরীক্ষার্থীগণ নিজ নিজ আসন গ্রহণ করবে এবং ১০ মিনিট পূর্বে উত্তরপত্র গ্রহণ করবে। সময়মতো প্রবেশ না করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- পরীক্ষা আরম্ভ হওয়ার ১৫ মিনিট পর কোনো পরীক্ষার্থীকে হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তবে ১৫ মিনিটের মধ্যে উপস্থিত হলে নেগরানে আলার অনুমতিসাপেক্ষে হলে প্রবেশ করতে পারবে।
- প্রথমেই খাতার প্রথম পৃষ্ঠায় পরীক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত প্রতিটি ঘর নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে। এরপর দ্বিতীয় পৃষ্ঠা থেকে উত্তর লেখা শুরু করবে। প্রত্যেক পাতার উভয় পৃষ্ঠায় লিখতে হবে।
- প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর গভীর মনোযোগ দিয়ে নিজে নিজে বোঝার চেষ্টা করবে। কোনো প্রশ্ন না বুঝলে বা অস্পষ্ট মনে হলে প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই প্রশ্ন বুঝে নিতে হবে। এক ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পর কোনো প্রশ্ন বোঝার জন্য দাঁড়ানো যাবে না।
- পরীক্ষা চলাকালীন কোনো প্রকার প্রয়োজন দেখা দিলে নিজ স্থানে দাঁড়াতে হবে; নিজ আসন ত্যাগ করা যাবে না।
- পরীক্ষার্থীগণ কোনো প্রকার লাল, নীল বা গোলাপি কলম/পেন্সিল ব্যবহার করতে পারবে না।
- পরীক্ষার দেড় ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে কোনো পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র জমা নেওয়া হবে না।
- উত্তরপত্র জমা দেওয়ার পর পরিদর্শক কর্তৃক প্রাপ্তি নিশ্চিত করে হল ত্যাগের অনুমতি দেওয়ার পরই কেবল হল ত্যাগ করা যাবে। অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত হল ত্যাগ করা যাবে না।
- পরীক্ষায় নকল কিংবা কোনো অসৎ পন্থা অবলম্বন করা বহিষ্কারযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
- পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট পূর্বে সতর্ক করা হবে। সতর্ক করার সঙ্গে সঙ্গে খাতার পৃষ্ঠা নম্বর দিয়ে অতিরিক্ত কাগজ পিনআপ করে নিতে হবে।
- নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তরপত্র অবশ্যই জমা দিতে হবে।
- কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থতা বা গ্রহণযোগ্য কারণে নির্ধারিত সময়ে আংশিক কিংবা পূর্ণ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারলে পরবর্তীতে সকল বিষয়ের মৌখিক পরীক্ষা দিতে হবে। মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পূর্বে দরসে বসা যাবে না।
- উপরোল্লিখিত কোনো বিধি লঙ্ঘন করা হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
📚 ছাত্র-পাঠাগার সংশ্লিষ্ট নিয়ম-কানুন
- প্রতিদিন আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত পাঠাগার সকল ছাত্রের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এ সময়ে যেকোনো ছাত্র পাঠাগারে বসে নিজের পছন্দের বই পড়ার সুযোগ পাবে।
- রেজিস্ট্রি না করিয়ে পাঠাগারের কোনো বই বাইরে নেওয়া সম্পূর্ণরূপে নিষেধ। কারও ব্যাপারে এমনটি প্রমাণিত হলে কঠিন শাস্তি প্রদান করা হবে।
- আলমারি থেকে বই নেওয়া এবং তা পুনরায় যথাস্থানে রাখার ব্যাপারে পাঠককে যত্নশীল হতে হবে।
- পাঠাগারের বইয়ে কোনো ধরনের দাগ দেওয়া, লেখা কিংবা বইয়ের কাগজ মুড়িয়ে রাখা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে হবে।
- পাঠাগারে অবস্থানকালে গল্প-গুজব, পানাহার বা অন্যের পাঠে বিঘ্ন ঘটায় এমন কোনো কাজ ও আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
- পাঠাগারে ব্যাগ, বই-পুস্তক ও অন্য কোনো ব্যক্তিগত আসবাব নিয়ে প্রবেশ করা নিষেধ।
- প্রতি রবিবার ও বুধবার এ সময়ে পাঠাগার থেকে বই গ্রহণ ও জমাদানের সুযোগ থাকবে।
- বই গ্রহণের জন্য অবশ্যই নির্ধারিত ফরমের মাধ্যমে পাঠাগারে সদস্যপদ গ্রহণ করতে হবে।
- একবার রেজিস্ট্রির মাধ্যমে একজন ছাত্র একটি মাত্র বই গ্রহণ করতে পারবে এবং একটি বই সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ নিজের কাছে রাখতে পারবে। এক সপ্তাহের বেশি সময় রাখার প্রয়োজন হলে পুনরায় রেজিস্ট্রি করে নিতে হবে।
- পাঠাগারের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সবাই যত্নবান থাকবে এবং অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ধারিত স্থানে ফেলবে।
- পাঠাগারের বই ও অন্যান্য আসবাবপত্র সকলের নিকট আমানত। এসবের যথাযথ হেফাজত করা প্রত্যেকের ঈমানী ও আখলাকী দায়িত্ব।
📚 সাপ্তাহিক বক্তৃতা ও বিতর্ক সংশ্লিষ্ট নিয়ম-কানুন
- প্রতি বৃহস্পতিবার যোহরের পর থেকে আসর পর্যন্ত বক্তৃতা ও বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে।
- প্রত্যেক প্রতিযোগীকে অবশ্যই ভালোভাবে মুখস্থ করে বক্তৃতা প্রদান করতে হবে। প্রস্তুতির ক্ষেত্রে গাফেলতি প্রমাণিত হলে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
- নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কম সময় বক্তৃতা দিলে এবং নির্ধারিত নম্বরের চেয়ে কম নম্বর পেলে শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
- সকল ছাত্রকে যথাসময়ে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হতে হবে। সময়মতো উপস্থিত না হওয়া, বিনা প্রয়োজনে বাইরে যাওয়া, বক্তৃতা প্রদান বা শোনা ছাড়া অন্য কাজে লিপ্ত হওয়া শৃঙ্খলা ভঙ্গ বলে গণ্য হবে।
- বক্তৃতা চলাকালীন অমনোযোগী থাকা, ওঠা-উঠি করা, পরস্পরে গল্প করা কিংবা কোনো বই বা ম্যাগাজিন পড়া সম্পূর্ণ নিষেধ।
- সাধারণ কোনো কারণে এই দিন ছুটি নেওয়া নিষেধ।
🤝 জামিয়া ও আসাতিযায়ে কিরাম সংক্রান্ত পালনীয় বিষয়
- কুরআন ও সুন্নাহর ইলম অর্জন এবং নিজের জীবন গড়ার অপরিহার্য অঙ্গন হিসেবে মাদরাসার প্রতি অন্তরের অন্তস্তল থেকে ভালোবাসা পোষণ করতে হবে।
- মাদরাসা কর্তৃক প্রণীত নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
- মাদরাসার কোনো খেদমতের প্রয়োজন হলে তা সানন্দে আঞ্জাম দিতে হবে।
- মাদরাসার মাকবুলিয়াত ও তারাক্কির জন্য দুআ করতে হবে এবং এর সাফল্য ও সুখ্যাতির জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে।
- মাদরাসার আসাতিযায়ে কেরামের যথাযথ এহতিরাম ও খেদমতকে নিজের সৌভাগ্য মনে করতে হবে এবং তাঁদের অনুসরণ ও আনুগত্যকে নিজের সাফল্যের চাবিকাঠি মনে করতে হবে।
- মাদরাসার ক্ষতি হতে পারে অথবা সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে—এমন কোনো কাজ করা যাবে না। শিক্ষক ও খাদেমদের সঙ্গে কোনো ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ বহিষ্কারযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
- মাদরাসার আসবাবপত্রের প্রতি যত্নবান হতে হবে। কারও ইচ্ছাকৃত কিংবা গাফেলতির কারণে মাদরাসার কোনো আসবাব আংশিক কিংবা পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ছাত্র তার ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে।
- মাদরাসার অভ্যন্তরের পরিবেশ সুন্দর রাখতে সচেষ্ট থাকতে হবে। কোনোভাবেই মাদরাসার অভ্যন্তরে কিংবা আশপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না। কোথাও ময়লা নজরে পড়লে তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করতে হবে।
🕌 নামায ও জামাআতের এহতেমাম
- নামাজের জামাআত এবং তাকবীরে উলার প্রতি পূর্ণ যত্নবান হতে হবে।
- প্রত্যেক ছাত্রকে নির্ধারিত তলায় জামাআতের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হবে।
- জামাআত শুরুর ১০ মিনিট পূর্বে অবশ্যই নামাজের স্থানে উপস্থিত হতে হবে এবং কাতারবন্দী হয়ে সুন্নাত আদায় করতে হবে অথবা নিচু আওয়াজে তিলাওয়াত করতে হবে, কিংবা কিতাব মুতালাআ করতে হবে অথবা খুশু-খুজুর সঙ্গে নামাজের ইন্তিজার করতে হবে।
- গাফেলতি করে জামাআতে অংশ না নিলে কিংবা একাধিকবার মাসবুক হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- নামাজ শেষ হওয়ার পর মাদরাসা কর্তৃক ঘোষিত আমল যথাস্থানে থেকে পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে আদায় করতে হবে।
✨ একজন তালিবে ইলমের আদর্শ
- তাফাক্কুহ ফিদ্দীন ও রুসূখ ফিল ইলম অর্জনের মাধ্যমে সত্যিকারের ওয়ারিসে নবী হয়ে দ্বীন ও মিল্লাতের খেদমত করাই হবে মাদরাসায় পড়ার মূল উদ্দেশ্য।
- জীবনের সর্বক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর বিধি-বিধান মেনে চলতে হবে।
- সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন ও আইম্মায়ে মুজতাহিদীন তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অনুসৃত আকীদা ও মাসলাক, চেতনা ও আদর্শের পূর্ণ অনুসারী হতে হবে। এর বিপরীত কোনো বাতিল ফেরকা বা ভ্রান্ত দলের আকীদা ও বিশ্বাসের সমর্থন করা কিংবা এসবের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক রাখা যাবে না।
🏢 দারুল ইকামা/আবাসন বিষয়ক কানুন
- মাদরাসার সকল ছাত্রকে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মাদরাসায় তাকবীরে উলার সঙ্গে আদায় করতে হবে।
- জামাআতের ১০ মিনিট পূর্বে প্রত্যেক ছাত্রকে কাতারে বসে যেতে হবে।
- বাদ ফজর কুরআন তিলাওয়াত ও মশক এবং আসর ও এশার নামাজের পর ইজতেমায়ী দুআর মজলিসে উপস্থিত থাকা সকল ছাত্রের জন্য জরুরি।
- সকল ছাত্র সর্বদা মাদরাসার বেষ্টনীর মধ্যে অবস্থান করবে। একান্ত প্রয়োজনে নেগরানের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে বাইরে যেতে পারবে।
- বহিরাগত কোনো লোক বা স্বীয় আত্মীয়-স্বজনকে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত মাদরাসার অভ্যন্তরে রাতে অবস্থান করতে দেওয়া যাবে না।
- সকলেই রাত ১০:৩০ মিনিট থেকে ১০:৪৫ মিনিটের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়বে। এ সময় কোনো ছাত্র বাইরে থাকতে পারবে না অথবা এমন কোনো কাজ করতে পারবে না, যাতে অন্যের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।
- দরসের সময় ব্যতীত অবশিষ্ট সময় তাকরার, মুতালাআ ও সবক ইয়াদের মধ্যে এমনভাবে মশগুল থাকতে হবে, যাতে অন্যের পড়াশোনায় কোনো ক্ষতি না হয়।
- নেগরানের অনুমতি ব্যতীত কারও সঙ্গে কোনো লেনদেন করা যাবে না। পরস্পরের মধ্যে কোনো মতানৈক্য হলে নেগরানের মাধ্যমে ফয়সালা করতে হবে। নিজে বিচার করা বা প্রতিশোধ নেওয়া যাবে না।
- সকল ছাত্রের সর্বদা দারুল ইকামায় উপস্থিত থাকা জরুরি। দারুল ইকামার হাজিরায় কারও পরপর তিনবার অনুপস্থিতি পাওয়া গেলে তার সিট বাতিল করে দেওয়া হবে।
- ছাত্রদের জন্য মোবাইল ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারও কাছে মোবাইল পাওয়া গেলে তা অফেরতযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে এবং জামিয়া কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি মেনে নিতে বাধ্য থাকবে।
- কোনো ছাত্র ছুটি নিয়ে শুক্রবার বাড়িতে যেতে চাইলে সাপ্তাহিক সাফাই ইত্যাদির দায়িত্ব নিজ জিম্মায় অন্য কাউকে দিয়ে যেতে হবে।
- ছুটির দরখাস্ত মঞ্জুর হওয়ার পর তা নেগরান উস্তাদের নিকট জমা করে বোর্ডিংয়ের দায়িত্বে থাকা উস্তাদের নিকট খানা বন্ধ করে যেতে হবে এবং ফিরে এসে নিজ দায়িত্বে খানা চালু করতে হবে। খানা বন্ধ না করে চলে গেলে অনির্দিষ্টকালের জন্য খানা বন্ধ থাকবে।
- জানালা বরাবর কোনো কাপড় ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। ভেজা কাপড় শুকানোর পর তা ভাঁজ করে নিজ দায়িত্বে গুছিয়ে রাখতে হবে। ঘুমানোর সময় ব্যতীত অন্য সময় বেডিংপত্র সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখতে হবে। দৈনিক কমপক্ষে তিনবার থাকার জায়গা ঝাড়ু দিতে হবে। ছেঁড়া কাগজ কাগজদানি বা ঝুড়িতে রাখতে হবে।
- খানা-পিনা, অজু-ইস্তিঞ্জা, ঘুম ইত্যাদি সকল কার্য সুন্নত তরীকানুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে। পরস্পরের মধ্যে সালামের বিশেষ পাবন্দি করতে হবে।
- যোহরের নামাজের পর থেকে গোসল ও খাওয়া-দাওয়া সেরে ২:৪৫ মিনিটের মধ্যেই পড়তে বসতে হবে।
- ঢাকা শহরে যাদের বাসা আছে, তারা মাসের নির্দিষ্ট সপ্তাহে ছুটি নিয়ে বাসায় যেতে পারবে। বৃহস্পতিবার আসর থেকে শুক্রবার মাগরিবের আধা ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত ছুটি ভোগ করা যাবে।
- উল্লেখিত কানুনসমূহ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে যে সকল কানুন বা নির্দেশ জারি করা হবে, সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে। ব্যতিক্রম হলে কর্তৃপক্ষের যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য থাকবে।
🍽️ বোর্ডিং সম্পর্কে ছাত্রদের পালনীয় বিষয়
- মাতবাখের যাবতীয় জিনিসপত্র প্রত্যেক ছাত্র ও স্টাফের নিকট দ্বীনি আমানত। তাই কোনো ছাত্র বা স্টাফ মাতবাখের কোনো আসবাবপত্র নষ্ট করতে পারবে না। মাতবাখের তেল, পেঁয়াজ, মরিচ ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
- চার্টে উল্লেখিত খাবার পরিবেশনের সময়সূচি অনুযায়ী বোর্ডিং থেকে খাবার সরবরাহ করা হবে। সকল ছাত্রকে উক্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই খানা উঠাতে হবে। এর পূর্বে বা পরে কাউকেই খানা প্রদান করা হবে না।
- খানা বন্ধ বা চালু করতে হলে একটি চিরকুটে ছাত্রের নাম, জামাত, দাখেলা ও গ্রুপ নম্বর উল্লেখপূর্বক খানা বন্ধ বা চালু করতে হবে। জামাতবদ্ধভাবে খানা বন্ধ বা চালু করার চিরকুট প্রদান গ্রহণযোগ্য হবে না।
- খোরাকির টাকা প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে অফিস সহকারীর নিকট পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় ১১ তারিখ দুপুর থেকে উক্ত ছাত্রের খানা বন্ধ হয়ে যাবে।
- খানা খাওয়ার পর কোনো ছাত্রের খাবার বেশি হলে খাওয়া শেষে সঙ্গে সঙ্গে তার অতিরিক্ত খাবার বোর্ডিংয়ে পৌঁছে দিতে হবে। কোনো খাবার নষ্ট করা যাবে না এবং ময়লার ডাস্টবিনে ফেলা যাবে না। নির্ধারিত সময়ে বালতি জমা না দেওয়ার কারণে খানা না পেলে কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।
- ছাত্ররা নিজেদের জন্য বা উস্তাদের জন্য বোর্ডিংয়ের অনুমতি ছাড়া রান্না করতে পারবে না। খানা সরবরাহের সময় এবং বালতি জমা দেওয়ার সময় ছাড়া বোর্ডিংয়ে প্রবেশ করা নিষেধ।
- খাবারের বালতি জমা দেওয়ার শেষ সময়: সকালের নাস্তার জন্য সকাল ৬টা পর্যন্ত, দুপুরের খাবারের জন্য সকাল ১১:৪০টা পর্যন্ত এবং রাতের খাবারের জন্য মাগরিবের পূর্ব পর্যন্ত।
- মাতবাখ-সংশ্লিষ্ট কোনো স্টাফ, তথা ম্যানেজার-বাবুর্চির সঙ্গে কোনো রকম অসৌজন্যমূলক বা অসম্মানজনক আচরণ করা যাবে না। কোনো সমস্যার উদ্ভব হলে মুহতামিমে জামিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে তা সমাধান করতে হবে।
⏰ ছাত্রদের জন্য বোর্ডিং সময়সূচি
খানা পরিবেশনের সময়:
| বেলার নাম | শুরুর সময় | সমাপ্তির সময় | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| সকালের নাস্তা | সকাল ৮:২০ | সকাল ৮:৫০ | নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নাস্তা গ্রহণ করতে হবে |
| দুপুরের খানা | দুপুর ১:৪৫ | দুপুর ২:১৫ | নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দুপুরের খানা গ্রহণ করতে হবে |
| রাতের খানা | এশার জামাআতের ৪০ মিনিট পূর্বে | — | এশার জামাআতের ৪০ মিনিট পূর্ব থেকে খানা বিতরণ শুরু হবে |
খানা জারি ও বন্ধ করার সময়সূচি:
| খাবারের ধরন | খানা বন্ধের সময় | খানা জারির সময় |
|---|---|---|
| সকালের খাবার | আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত | যেকোন সময় |
| দুপুরের খাবার | বাদ ফজর থেকে সকাল ৮:৫০ পর্যন্ত | যেকোন সময় |
| রাতের খাবার | বাদ ফজর থেকে সকাল ৮:৫০ পর্যন্ত | যেকোন সময় |
🏢 যেসব কারণে খানা বন্ধ হয়ে যাবে
নিচের যেকোন অপরাধের কারণে খানা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে:
- ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে।
- এশার পর খতমে খাজেগানে অনুপস্থিত থাকলে।
- দারুল ইকামার হাজিরায় অনুপস্থিত থাকলে।
- খানা জারি থাকা অবস্থায় বোর্ডিং থেকে খানা না উঠালে কিংবা খানা বন্ধ না করে ছুটিতে গেলে।
- সাপ্তাহিক ও মাসিক বক্তৃতা মজলিসে অনুপস্থিত থাকলে।
- আসরের পর বোর্ডিং হাজিরায় অনুপস্থিত থাকলে।
- খোরাকির টাকা প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে পরিশোধ না করলে।
উল্লেখ্য: কখনো কখনো মাদরাসার কানুন অমান্য করার অপরাধেও খানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
🥼 পোশাক-পরিচ্ছদ সংক্রান্ত নীতিমালা
- পোশাক-পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে সুন্নাত তরীকা ও আকাবির-আসলাফের শালীন ও মার্জিত রুচির অনুসরণ করতে হবে।
- শরীয়তের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয় ও রুচিবহির্ভূত রং তথা লাল, হলুদ, কমলা, গোলাপি ইত্যাদি রঙের জামা-পায়জামা পরা যাবে না।
- এমব্রয়ডারি করা জামা, প্রিন্টের কাপড়ের জামা এবং নকশাকৃত জামা-পায়জামা পরা যাবে না।
- রেডিমেট জামা-পায়জামা পরা যাবে না।
- স্যান্ডোগেঞ্জি, কলারবিশিষ্ট গেঞ্জি, ছবি-সম্বলিত গেঞ্জি, কোম্পানির বিজ্ঞাপনযুক্ত গেঞ্জি এবং যেকোনো ভাষায় লেখাযুক্ত গেঞ্জি পরিধান করা যাবে না।
- চুষ পায়জামা ও টাইট জামা পরিধান করা যাবে না।
- পাঞ্জাবি নিসফে-সাক পর্যন্ত এবং সেলোয়ার অবশ্যই টাখনুর উপরে পরিধান করতে হবে।
- পাঁচ কল্লি টুপি পরতে হবে।
- মাদরাসায় নিষিদ্ধ পোশাক বাসা-বাড়িতেও পরা যাবে না।
- জামার কলারে বা হাতায় বোতামের পরিবর্তে চেইন ব্যবহার করা যাবে না।
- মাদরাসার নিয়মবহির্ভূত পোশাকের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।
📱 মোবাইল, ল্যাপটপ, স্মার্ট ঘড়ি ও ইলেকট্রিক ডিভাইস সংক্রান্ত নীতিমালা
- ছাত্রদের জন্য মোবাইল ফোন, ট্যাব, স্মার্ট ঘড়ি, ল্যাপটপ এবং এগুলোর যেকোনো যন্ত্রাংশ ব্যবহার, বহন ও সংরক্ষণ—সবই নিষিদ্ধ।
- সিডি, ভিসিডি, এমপি-থ্রি/ফোর প্লেয়ার, রেডিও, টেপ রেকর্ডার, ক্যামেরা এবং এ জাতীয় যেকোনো ডিভাইস মাদরাসায় আনা যাবে না।
- কারো কাছে উক্ত কোনো ডিভাইস পাওয়া গেলে তা স্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্তসহ কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে। অবস্থাভেদে বহিষ্কারও হতে পারে।
- দূরবর্তী ছাত্রদের বাড়ি থেকে আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে মোবাইল আনার অনুমতি রয়েছে। তবে মোবাইলটি অবশ্যই নন-অ্যান্ড্রয়েড হতে হবে এবং মাদরাসায় পৌঁছামাত্র নেগরান ওস্তাদের কাছে জমা দিতে হবে।
- এই মোবাইল শুধু বাড়িতে আসা-যাওয়ার প্রয়োজনের জন্য বিবেচিত হবে, দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য নয়।
- জামিয়া বাবুস সালামে অধ্যয়নকালে মাদরাসায় কিংবা বাসা-বাড়িতে কোনো ধরনের অনলাইন কার্যক্রমে জড়িত হওয়া বহিষ্কারযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।
- কোনো ছাত্রের ফেসবুক আইডি থাকতে পারবে না। কারো নামে বা ছদ্মনামে ফেসবুক আইডি পাওয়া গেলে উক্ত ছাত্র বহিষ্কারযোগ্য বলে গণ্য হবে।
👥 সহপাঠী সংশ্লিষ্ট নীতিমালা
- সহপাঠীদের সাথে সম্পর্ক হবে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক। সুতরাং কারো সাথে দৃষ্টিকটু সম্পর্ক কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত শত্রুতা পোষণ করা যাবে না।
- অনুমতি ছাড়া কেউ কারো আসবাবপত্র ব্যবহার করতে পারবে না।
- কোনো সহপাঠীর আসবাবপত্র যত্রতত্র পড়ে থাকতে দেখলে তা নির্দিষ্ট মালিকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। একজন অন্যজনের আসবাবপত্র হেফাজত করার চেষ্টা করবে।
- নিজেদের মধ্যে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন এবং ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না।
- পরস্পরের মাঝে কোনো সমস্যা দেখা দিলে নিজেরা সমাধান না করে নেগরান ওস্তাদের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।
- পরস্পরের মাঝে মারামারি করা বহিষ্কারযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। যেকোনো বিষয়ে অপর সহপাঠীকে প্রাধান্য দেওয়ার গুণ অর্জন করতে হবে। পড়ালেখাসহ যাবতীয় বিষয়ে একে অপরের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে।
- কোনো সহপাঠীকে তার অন্যায় বা দুর্বলতার জন্য তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা যাবে না।
⚠️ জামিয়া থেকে সরাসরি বহিষ্কারের ৫টি কারণ
নিম্নোক্ত পাঁচটি গুরুতর অপরাধের যেকোনো একটি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ছাত্রের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তাকে জামিয়া থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে:
- চুরি বা অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ: জামিয়ার কোনো শিক্ষার্থী যদি অন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী বা জামিয়ার কোনো সম্পদ চুরি করে, আত্মসাৎ করে কিংবা চুরির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রমাণিত হলে তাকে জামিয়া থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে।
- পরীক্ষায় নকল বা অসদুপায় অবলম্বন: পরীক্ষায় নকল করা, অন্যের খাতা দেখে লেখা, নিজের উত্তরপত্র অন্যকে দেখানো, প্রশ্নপত্র বা উত্তরপত্রে অবৈধভাবে সহযোগিতা নেওয়া বা দেওয়া, কিংবা কোনো ধরনের অসদুপায় অবলম্বন করা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে শিক্ষার্থীকে জামিয়া থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে।
- অনুমতি ছাড়া মোবাইল ফোন ব্যবহার: জামিয়ার নিয়ম অমান্য করে মোবাইল ফোন রাখা, ব্যবহার করা বা গোপনে মোবাইল ব্যবহারের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশেষ করে বারবার নিষেধ করার পরও মোবাইল ব্যবহার করলে শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তাকে জামিয়া থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে।
- বিনা কারণে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা: কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ, অসুস্থতা বা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা শিক্ষার্থীর দায়িত্বহীনতা ও শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে। যথাযথ কারণ ছাড়া পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি গুরুতরভাবে বিবেচনা করা হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হতে পারে।
- অনুমতি ছাড়া এক মাস বা তার বেশি অনুপস্থিত থাকা: জামিয়া কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা বৈধ ছুটি ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী টানা এক মাস বা তার বেশি সময় জামিয়ায় অনুপস্থিত থাকলে তা গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে। যথাযথ কারণ ও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকলে শিক্ষার্থীর জামিয়ায় অধ্যয়ন অব্যাহত রাখার সুযোগ বাতিল করে তাকে বহিষ্কার করা হতে পারে।
📅 ছুটি সংক্রান্ত নীতিমালা
- সাধারণ ছুটি ব্যতীত বাকি দিনগুলোতে নিয়মিত উপস্থিত থেকে একাগ্রতার সাথে পড়ালেখায় মশগুল থাকা আবশ্যক। অনিবার্য কারণে সীমিত সময়ের জন্য ছুটি গ্রহণ করা যাবে। কোনো অবস্থাতেই অনুমতি ছাড়া মাদরাসা ত্যাগ করা যাবে না।
- একদিন কিংবা একদিনের সবগুলো দরসে কিংবা তদধিক সময়ের ছুটির জন্য লিখিত দরখাস্তে নেগরান ওস্তাদের সুপারিশ নিয়ে মুহতামিম সাহেব কর্তৃক মঞ্জুর করতে হবে। মঞ্জুরের পর নাজেমে মাতবাখের কাছে জমা দিয়ে ছুটির কাজ সম্পন্ন করতে হবে। অতঃপর নেগরান ওস্তাদের কাছ থেকে অনুমতিপত্র গ্রহণ করে মাদরাসা ত্যাগ করতে হবে।
- উল্লিখিত সময়ের চেয়ে কম সময়ের ছুটির ক্ষেত্রে নেগরান ওস্তাদের কাছ থেকে মৌখিকভাবে ছুটি গ্রহণ করতে হবে।
- কয়েকটি দরসের ছুটির জন্য ওই দরসগুলোর যেকোনো একজন ওস্তাদ অথবা নেগরান ওস্তাদের কাছ থেকে ছুটি গ্রহণ করতে হবে।
- যেকোনো ধরনের ছুটির ক্ষেত্রে মাদরাসায় ফেরামাত্র ছুটি প্রদানকারী ওস্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করা একান্ত অপরিহার্য।
- দরখাস্তের মাধ্যমে গৃহীত ছুটি কিংবা সাধারণ ছুটির পর মাদরাসায় পৌঁছামাত্র অভিভাবককে উপস্থিতির বিষয়ে অবশ্যই অবহিত করতে হবে।
- সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর নিজ বাসস্থান ব্যতীত অন্য কোথাও যাওয়া যাবে না। মাদরাসায় অবস্থানের প্রয়োজন হলে অভিভাবকের অনুমতি নিতে হবে এবং নাযেমে দারুল ইকরামকে অবহিত করতে হবে।
- ওস্তাদকে অবহিত করা ব্যতীত যেকোনো ছুটির পর যথাসময়ে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হলে, কিংবা বিনা অনুমতিতে বাসায় গেলে অথবা অনুমতি নিয়ে বাসায় গিয়ে অনুমোদিত ছুটির অতিরিক্ত সময় বাড়িতে অবস্থান করলে ভর্তি নবায়নসহ যেকোনো ধরনের উপযুক্ত শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
📌 বিবিধ নীতিমালা
- তালীম-তারবিয়াত বিষয়ক সকল মজলিস এবং মাদরাসার সকল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা আবশ্যক।
- দাড়ি সুন্নাত মোতাবেক রাখতে হবে। দাড়ি কাটা, উপড়ানো এবং এক মুষ্টির ভিতরে ছাঁটা সম্পূর্ণ নিষেধ। কারো ব্যাপারে বিষয়গুলো প্রমাণিত হলে সে বহিষ্কারযোগ্য বলে গণ্য হবে।
- মাথার চুল বড় রাখা যাবে না এবং চার পাশে সমান রেখে চুল কাটতে হবে।
- জামা-কাপড়, বিছানা-পত্র পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি রাখতে হবে। নিজেদের থাকা-খাওয়া ও গোসলের স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
- মাদরাসা কর্তৃক নির্ধারিত কিংবা ওস্তাদ কর্তৃক নির্দেশিত ইজতেমায়ী কাজে একনিষ্ঠভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।
- টিভিতে খেলা দেখা এবং সাইবার ক্যাফেতে যাতায়াত বা এসবের আশেপাশে ঘোরাফেরা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
- আমল-আখলাক নষ্ট হয়—এ ধরনের কোনো বই-পুস্তক এবং ভ্রান্ত আকীদা ও বিকৃত চিন্তাধারার লেখকদের কোনো বই পড়া ও নিজের কাছে রাখা যাবে না।
- কোনো রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক দল বা তার অঙ্গসংগঠনের সাথে কিংবা কোনো সমিতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়া এবং এ-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- এই মাদরাসার ছাত্র থাকাকালীন কোনো ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে যুক্ত হওয়া যাবে না।
- এই মাদরাসায় ছাত্র থাকাকালীন স্কুল কিংবা আলিয়া বোর্ডে পরীক্ষা দেওয়া যাবে না।
- নিজের কামরা ব্যতীত অন্য কামরায় এবং নিজের বিছানা ব্যতীত অন্যের বিছানায় কোনো অবস্থাতেই রাতযাপন করা যাবে না।
- একান্ত প্রয়োজনীয় আসবাব ব্যতীত কোনো জিনিস বা দামি কোনো বস্তু ছাত্রাবাসে রাখা যাবে না।
- প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা-পয়সা নিজের কাছে রাখা যাবে না। নেগরান ওস্তাদের কাছে রাখতে হবে।
- পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে হবে। কোনো প্রকার অপচয় করা যাবে না। নিজ নিজ কামরার প্রয়োজনের অতিরিক্ত বাতি-পাখা বন্ধ রাখতে হবে।
- নাযেমে দারুল ইকামের অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ফ্যান, ইলেকট্রিক জগ, তেপায়া, পড়ার টেবিল, র্যাক ও আলমারি মাদরাসায় রাখা ও ব্যবহার করা সম্পূর্ণরূপে নিষেধ।
- নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং ঔষধ আসর থেকে মাগরিব—এই সময়ের মধ্যেই সংগ্রহ করতে হবে।
- কারো মেহমান মাদরাসায় রাতযাপন করতে চাইলে অবশ্যই নাযেমে দারুল ইকামের অনুমতি নিতে হবে।
- মাদরাসার মাসিক প্রদেয় প্রত্যেক ইংরেজি মাসের ১-৭ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। পরিশোধ করতে বিলম্ব হলে নেগরান ওস্তাদকে অভিভাবক কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের আগে অবহিত করতে হবে।
- মাদরাসার কোনো আসবাব নিজের খুশিমতো স্থাপন ও স্থানান্তর করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দায়িত্বশীল ওস্তাদের অনুমতি সাপেক্ষে করতে হবে।
- দলভিত্তিক, জামাত/শ্রেণিভিত্তিক কিংবা মাদরাসাভিত্তিক কোনো খেলাধুলা করা যাবে না। এ ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- মাদরাসার কোনো বিরতিতেই দলবদ্ধভাবে কোথাও ঘুরতে যাওয়া যাবে না।
- মাদরাসার এলাকার লোকজনের সাথে সর্বদা সুন্দর ও সৌজন্যমূলক ব্যবহার করতে হবে। তবে কিছুতেই কারো সাথে বন্ধুত্বে জড়ানো যাবে না এবং আর্থিক লেনদেন করা যাবে না।
- কোনো দোকানে বাকিতে লেনদেন করা যাবে না।
- বিনা প্রয়োজনে পুরোনো বন্ধুদেরকে মাদরাসায় আনা কিংবা অবস্থান করানো যাবে না।
- কারো বাসা, অফিস কিংবা অন্য কোথাও টিউশনি করা যাবে না।