🕌 জামিয়া বাবুস সালাম-এর পরিচিতি
কুরআন ও সুন্নাহর সুমহান শিক্ষার মাধ্যমে মানবজাতির আত্মিক পরিশুদ্ধি, চারিত্রিক উন্নয়ন এবং পরকালীন অনন্ত মুক্তির পথ সুগম করতে যুগে যুগে নবী-রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছেন। তাঁদের তিরোধানের পর এই পবিত্র আমানত নিষ্ঠার সাথে বহন করে চলেছেন তাঁদেরই সুযোগ্য উত্তরসূরী হক্কানী উলামায়ে কেরাম ও সালাফে সালেহীন।
সেই অবিচ্ছিন্ন আসমানী শিক্ষা ধারার ধারাবাহিকতায় এবং দারুল উলুম দেওবন্দের মহান আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে "জামি'য়া বাবুস সালাম"
— প্রতিষ্ঠাকাল: ১২ মার্চ ১৯৯৬ ঈসায়ীদীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি হাজার হাজার যোগ্য আলেম, দাঈ, মুফাসসির, মুহাদ্দিস ও হাফেজে কুরআন তৈরির মাধ্যমে দেশ-বিদেশের আনাচে-কানাচে দ্বীনের নূর ছড়িয়ে দিচ্ছে।
২৮+
বছরের পথচলা
১০০০+
ফারেগ আলেম
৫০০+
বর্তমান ছাত্র
১০+
বিভাগ
📍 ভৌগোলিক অবস্থান ও মনোরম পরিবেশ
বাংলার প্রধান প্রবেশদ্বার ও রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে বুকে জড়িয়ে বিশাল দেহপল্লবী নিয়ে সগৌরবে দণ্ডায়মান "জামি'য়া বাবুস সালাম"।
পূর্ব পাশে
র্যাব হেডকোয়ার্টার (নির্মাণাধীন) এবং সরকারি হজ ক্যাম্প
উত্তর-পূর্বে
বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন এবং ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
নিকটবর্তী
হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
যোগাযোগের দিক থেকে অত্যন্ত সুবিধাজনক স্থানে অবস্থিত হওয়ায় সারা দেশের ছাত্র ও ধর্মপ্রাণ শুভানুধ্যায়ীদের জন্য এটি এক উন্মুক্ত দ্বীনি মিলনমেলা।
🌙 নামকরণের তাৎপর্য
চিরশান্তি, ক্ষমা ও বিশ্বজনীন কল্যাণের ধারক-বাহক মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিজ পবিত্র হাতে নির্মিত ঐতিহাসিক "মসজিদে নববী"—যেখান থেকে অহর্নিশ বর্ষিত হচ্ছে রহমতের অমীয় ধারা। মসজিদে নববীর অন্যতম একটি বরকতময় প্রধান প্রবেশদ্বারের নাম "বাবূস সালাম" (শান্তির তোরণ)।
যে ফটকে পড়েছে নবী করীম ﷺ-এর মোবারক কদমের পরশ, যে তোরণের সুশীতল ছায়ায় সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.) তাঁদের হৃদয়কে প্রশান্ত করেছেন—উম্মতের জন্য আজও বয়ে চলা সেই শান্তির পরশ এবং বরকতের চিরন্তন প্রত্যাশায় এই প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে "জামি'য়া বাবুস সালাম"
بَابُ السَّلَام — শান্তির তোরণ📜 আমাদের সংগ্রামী ইতিহাস
🌱 গোড়াপত্তন (১৯৯৬)
একটি মহীরুহাকৃতির বৃক্ষের সূচনা যেমন একটি ক্ষুদ্র বীজ থেকে হয় ঠিক তেমনি জামিয়া বাবুস সালাম-এর বুনিয়াদ মাওলানা আনিসুর রহমান দ্বারা গোড়াপত্তন হয়। অত্র প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম মাওলানা আনিসুর রহমান দীর্ঘদিন যাবৎ হৃদয়ের মণিকোঠায় একটি দ্বীনি মারকায গড়ার স্বপ্ন লালন করেছিলেন। সেই লালিত স্বপ্নকে ১৯৯৬ সালের ১২ই মার্চ বাবুস সালাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় বাস্তবায়িত করেন।
🚀 পথচলা শুরু
সেই থেকে শুরু হয় জামিয়া বাবুস সালাম-এর পথ চলা। দেশের অপরাপর দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের ন্যায় সহজ-সরলভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি এই প্রতিষ্ঠানটি, বরং তার পশ্চাতে রয়েছে এক রক্তাক্ত ইতিহাস।
🎓 বিভাগসমূহ প্রতিষ্ঠা
শত প্রতিকূলতা, ঘাত-প্রতিঘাত, দুর্যোগ ও দুর্যোগময়তা এবং শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে মক্তব, হিফজ, ইফতা বিভাগসহ দাওরায়ে হাদিসের মোবারক দরস চালু করতে সক্ষম হয়।
🏛️ বর্তমান অবস্থান (২৮ বছর)
হাঁটি-হাঁটি পা-পা করে মাত্র ২৮ বছরে পা রেখেছে। বর্তমানে জামিয়া ২৮ বছরে পদার্পণ করেছে এবং সুনামের সাথে দ্বীনি খেদমত অব্যাহতরেখেছে।
⚔️ বাধা-বিপত্তি ও ষড়যন্ত্র
প্রতিষ্ঠানটি শুরুলগ্ন থেকে স্বার্থান্বেষী মহলের লোলুপদৃষ্টির রোষানলে পড়ে। শুধুমাত্র একটি মহল নয়, বরং একাধিক মহল। তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বাধার প্রাচীর বানিয়েছিল বারবার।
🌿 আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়
কিন্তু আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম তাওয়াক্কুল ও ধৈর্যের মূর্তপ্রতীক মাওলানা আনিসুর রহমান ঈমানদীপ্ত চেতনা আর বলিষ্ঠ ভূমিকা এবং ছাত্র-উস্তাদদের গভীর ভক্তির রোমাঞ্চকারিতে বাতিলের সকল চক্রান্ত ধূলিসাৎ হয়।
স্বার্থান্বেষী মহলের সকল প্রচেষ্টাকে রুখতে এবং জামিয়ার অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখতে ছাত্র-শিক্ষকসহ সকল শুভাকাঙ্ক্ষী জীবনবাজি রাখেন। আলহামদুলিল্লাহ! সেথোকে আজও সবধরনের বাধা-বিপত্তি ও ষড়যন্ত্রের হাত ডিঙিয়ে "বাবুস সালাম" শির উঁচু করে আপন লক্ষ্য পানে ছুটে চলছে।
🤲 আপনার সহযোগিতা কামনা
কিন্তু কুচক্রী মহলের অপতৎপরতা আজও থেমে নেই। তাই প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখা ও সুচারুরূপে পরিচালনায় সহযোগিতা করার জন্য সকল শ্রেণির উদার মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
💰 অনুদান দিয়ে সহযোগিতা করুন