ইসলামের ইতিহাস


[লিখেছেন jawad tahir, November 13, 2017 01:51 pm ]

পৃথিবীর জাতিসমূহের মধ্যে একমাত্র মুসলিম জাতিই এমন একটি জাতি এবং ইসলাম ধর্মই এমন একটি ধর্ম যার পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস আনুপূর্বিক সুসংরক্ষিত রয়েছে। এর কোন একটি অংশ বা অধ্যায়ও এমন নয়-যাতে সংশয়-সন্দেহের অবকাশ আছে। মুসলমানরা হুযূর সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের যুগ থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত সংঘটিত যাবতীয় ঘটনার বিবরণ লিখিতভাবে সংরক্ষণের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র উদাসীনতা প্রদর্শন করেন নি। মুসলমানদের জন্যে এটা সঙ্গতভাবেই গর্বের কারণ যে, ইসলামের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস প্রত্যেকটি ঘটনার সমসাময়িক ঐতিহাসিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার সাহায্যে তার বিন্যাস ও রচনা করতে পারেন এবং সেসব সমসাময়িক ঐতিহাসিক ও বিশ্বস্ত রাবীদের বর্ণনা অনস্বীকার্য ধারাবাহিকতাও তারা সমপ্রণিত করতে পারেন। পৃথিবীতে কেবল মুসলমানই এমন একটা জাতি যারা তাদের পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য ইতিহাস সংরক্ষন করেছে। দুনিয়ার অন্য কোন জাতি এ ব্যাপারে মুসলমানদের সমকক্ষ নয়। ইসলামের ইতিহাসবেত্তাগণ এ ব্যাপারে এতই সতর্কতা অবলম্বন করেছেন যে, প্রতিটি ঘটনা হুবহু বর্ণনা করে নিজেরা মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন। কেননা তাতে সন্দেহ হতে পারতো যে, ইতিহাস লেখকের নিজস্ব খেয়ালখুশি ও প্রবণতার ছাপ পড়ায় পাঠকের মনে তার প্রভাব পড়েছে এবং ঘটনা সম্পর্কে তার নিরপেক্ষ বিচারের স্বাধীনতা খর্ব হয়েছে। ফলে মনের অজান্তেই পাঠক ইতিহাস লেখকের বিশিষ প্রবণতার অন্ধ অনুসারী সেজে বসেছে। ইসলামের ইতিহাসের মাহাত্ম্য এখন অন্তরে আরো বেশি রেখাপাত করে যখন দেখা যায় যে, ইসলামের ইতিহাসের যে কোন অধ্যায়কে বুদ্ধির কষ্টিপাথরে ও যুক্তির বৈজ্ঞানিক মাপকাঠিতে পরীক্ষা এবং বিশ্লেষণ করলেও তাতে কোনরূপ ত্রুটি বৈকল্য বা কৃত্রিমতার লেশমাত্র পাওয়া যায় না।

ইতিহাস হলো জাতির দর্পণস্বরূপ। এর মাধ্যমে মানুষ জানতে পারে বিগত দিনের সাফল্য ও ব্যর্থতার ইতিকথা। আর জানতে পারে এর কারণ সমূহ। তাই মানুষ ইতিহাস পাঠে সাবধানী হয়, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বিচক্ষণতার পরিচয় দেয়, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সচেষ্ট, উৎসাহিত ও অনুপাণিত হয়। ইতিহাস আমাদেরকে পূর্ববর্তী মহাপুরুষদের কাহিনীসমূহ সম্পর্কে অবহিত করে আমাদের মন-মস্তিঙ্কে একটি শুভ উদ্দীপনার সঞ্চার করে। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে:

তোমরা যদি না জান তবে জ্ঞানীদিগকে জিজ্ঞাসা কর। (২১:৭)
আল্লাহর এই সুস্পষ্ট হুকুম তামীল করার মধ্যেই ঐতিহাসিক গ্রন্থাদি পাঠে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে। মানুষের এই সহজাত প্রবৃত্তির দিকে লক্ষ্য রেখেই প্রবৃত্তিসমূহে স্রষ্টা আসমানী কিতাবসমূহে মধুময় আস্বাদন রেখে দিয়েছেন। বনী ইসরাঈলের জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের কথা সর্বজনবিদিত। এমনকি তারা নিজেদেরকে (আমরা আল্লাহ্‌র পুত্র এবং তার প্রিয়জন, নাউযুবিল্লাহ্‌) বলে অভিহিত করতো। কিন্তু এমন একটি জাতিই যখন নিজেদের পূর্বপুরুষদের কথা বিস্মৃত হয়ে গেলো তখন তারাও দিন দিন অধঃপতনের দিকে তলিয়ে যেতে লাগলো। এজন্যেই আল্লাহ্‌ তা’আলা তাদেরকে বারবার এই বলে সম্বোধন করেছেন:

“হে বনী ইসরাঈল! স্মরণ কর” … পূর্ব পুরুষদের কথা তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

আক্ষেপ ও বিস্ময়ের ব্যাপার, আজ যখন বিশ্বের তাবৎ জাতি নিজেদেরকে বিশ্বদরবারে সমুন্নত করার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত, তখনও সর্বাধিক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্যের অধিকারী মুসলমানগণ নিজেদের ইতিহাস সম্পর্কে উদাসীন ও নির্বিকার। পৈতৃক সূত্রে আমরা মুসলিম হওয়ায় ইসলামের ইতিহাস আমাদের আমাদের অধিকাংশের কাছে অবহেলার বিষয় । মুসলিম প্রধান দেশ হলেও প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় তা জানার সুযোগ সিমিত । বর্তমান মুসলিমদের অধিকাংশ আমরা জানি না কেন আমরা মুসলিম। এবং ইসলামকে মেনে চলার ব্যপরের আমরা নিষ্ঠাবান নই। শান্তি হারিয়ে বিভিন্ন কিছুতে আমরা শান্তির সন্ধান করছি। অথচ খুঁজে দেখিনা ইসলামকে মানার মধ্যেই শান্তি নিহিত রয়েছে। কিন্তু তা জানতে হলে আমাদের ইসলামের ইতিহাসকে জানা জরুরি। ইতিহাসক একটা জাতির দিক-দর্শন যন্ত্রের মতও কাজ করে। আসুন নিচের কিছু নির্ভরযোগ্য ও জনপ্রিয় বই থেকে আমরা জেনে নেই, কেন আমাদের পূর্বসুরিরা আমাদের চেয়ে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন, শান্তিময় এবং সাফল্য পেয়েছিলেন ।

ইসলামের ইতিহাস

ঐতিহাসিক মাওলানা আকবর শাহ খান নজিবাবাদী তাঁর গ্রন্থের প্রথমদিকে ইতিহাসের সংজ্ঞা, ইতিহাসপাঠের প্রয়োজনীয়তা, ইসলামের ইতিহাস ও সাধারণ ইতিহাস সংক্রান্ত পর্যালোচনা করেছেন। এরপর আরবদেশ, আরবদেশের অবস্থান, প্রকৃতি ও এর অধিবাসী সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর জন্ম হতে ওফাত পর্যন্ত যাবতীয় ঘটনা সবিস্তারে বিধৃত হয়েছে। গ্রন্থখানির পরিসমাপ্তি ঘটেছে খুলাফায়ে রাশেদার আমলে ইসলাম প্রচার, দেশ বিজয় ও রাজ্য শাসন ইত্যাদি বিষয়ের নিখুঁত, নির্ভুল ও হৃদয়গ্রাহী উপস্থাপনার মাধ্যমে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি

Your email address will not be published. Required fields are marked *